৩০ লাখ টাকা মূল্যের জমি দান করে বিদ্যালয় বাঁচালেন সাবেক প্রধান শিক্ষক

নীলফামারী- ডোমার সড়ক প্রশস্তকরনের কারনে শালমারা বন্দরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন সহ পুরো জমি অধিগ্রহণ করা হয়। বিদ্যালয়ের আর কোন যায়গা না থাকায় বিদ্যালয়টি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা শিক্ষা অফিস। এবং সিদ্ধান্ত হয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশ্ববর্তী বিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

কিন্তু বিদ্যালয় বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত কোন ভাবেই মেনে নিতে পারেন নি বিদ্যালয়টির সাবেক প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র রায়। যখন বিদ্যালয়টি কোন ভাবেই রক্ষা করা যাচ্ছিলো না তখন নিজের ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ২৭ শতক জমি বিদ্যালয়ের নামে দান করে দেন তিনি।

১৬ জুন সাবরেজিস্টার কার্যালয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ, থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমির হোসেন সহ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও শিক্ষকদের সামনে ২৭ শতক জমি বিদ্যালয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন।


বিদ্যালয়টি টিকে থাকায় শিক্ষার্থীরা খুবই আনন্দিত। একই সাথে বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ এলাকাবাসী খুবই খুসি।জগদীশ চন্দ্র রায় বলেন, বিদ্যালয়ের বিলুপ্তি কোন ভাবেই মেনে নিতে পারি নি। আমি ২৮ বছর এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলাম। সন্তানের মতো বিদ্যালয়কে দেখেছি। তাই আমার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছি তারা আমাকে সমর্থন দিয়েছে। তাই আমার ২৭ শতক জমি বিদ্যালয়ের নামে দান করে দিয়েছি।

এবিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমীর হোসেন বলেন, রাস্তা প্রশস্ত করার কারনে বিদ্যালয়ের জায়গা অধিগ্রহণ করার ফলে আর কোন যায়গা না থাকায় বিদ্যালয়টি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।কিন্তু সাবেক প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র রায়ের জমি দানে বিদ্যালয়টি টিকে গেলো।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*